‘পৃথিবীর সেরা লিভারপুলবাসী’ – প্রশংসায় জাভি

জাভি আলোন্সো (Xavi Alonso) মনে করেন জেমী কার্রাঘের (Jamie Carragher) পৃথিবীর সেরা লিভারপুলবাসী। অবসর নিতে যাওয়া এই ৩৫ বছর বয়সীর ফুটবল এর প্রতি ভালবাসা এবং তার রসবোধের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

এই রিয়াল মাদ্রিদ (Real Madrid) মিডফিল্ডার একই ড্রেসিং রুমে পাঁচটি মৌসুম কাটিয়েছেন এই সেন্টারব্যাক এর সাথে যা তাদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরী করে। বটল (Bootle) নিবাসী এই দুজনের মাঝে সেই সম্পর্ক আজও বিদ্যমান।

রবিবার কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্স (Queens Park Rangers) এর বিপক্ষে ফুটবল জীবনের শেষ বারের মত মাঠে নামতে প্রস্তুত কার্রাঘের (Carragher)। এই রকম একটি সময়ে আলোন্সো (Alonso) এই ২৩ নম্বরের দলের ও শহরের প্রতি দায়িত্ববোধ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

LFC TV নতুন কার্রাঘের (Carragher) ডকুমেন্টটারিতে তিনি বলেন, “ক্যারাকে নিয়ে কি বলা যায়?”

“যখন আমি লিভারপুল এ যোগদান করি, এবং তার সাথে আমার পরিচয় হয় সেই মুহুর্তে আমি বুঝে ছিলাম তিনি অসাধারণ একজন, যার ধ্যান গ্যান সবই শুধু দলকে নয়, শহর কে ঘিরেও।”

“আমি সব সময় বলি তিনি পৃথিবীর সেরা লিভারপুলবাসী, কারণ তাকে দেখে বোঝা যায় এই দল আর এই শহর আসলে কি। দলের আর খেলাটার প্রতি তার প্রচন্ড আবেগ আমরা দেখতে পাই।”

“তিনি আমার একজন অত্যন্ত ভালো বন্ধু এবং আমার পাঁচ বছর থাকাকালীন সময় আমরা খুবই কাছের মানুষ ছিলাম এবং তা এখনো আছে।”

“আপনি দেখবেন তিনি অদম্য এবংস্পষ্টভাষী একজন মানুষ, খেলার মাঠে তিনি ছিলেন একজন পথপ্রদর্শক। আমরা যখনি মাঠে নামতাম আপনি দেখবেন তিনি মাঠে উদাহরণ স্বরূপ থাকতেন।”

“তিনি ছিলেন অত্যন্ত নিবেদিত, মাঠে সব সময় চিৎকার করে সবাইকে নির্দেশ দিতেন, কিন্তু নিজের দায়িত্ব সব সময় সঠিক ভাবে পালন করতেন। একজন দলনেতার কাছে এইটাই সবাই আশা করে – তিনি নিজে যা করতেন এবং যে ভাবে খেলতেন, যে আবেগ ছিল তার খেলার প্রতি সেটাই তিনি তার সহ-খেলোয়াড়দের কাছে চাইতেন।”

সহ-খেলোয়ার হিসেবে তিনি খুবই মজার ছিলেন; তিনি মজার ছলে বিদ্রূপ করতেন, রসিকতা করতে পছন্দ করতেন আর তার ছিল এক অনন্য লিভারপুলীয় রসিকতাবোধ যা ছিল খুবই দারুন। শুধু তিনি না তার বাবা এবং ভাইও ছিলেন তারই মতন।

“আমি সব সময় বলি তিনি পৃথিবীর সেরা লিভারপুলবাসী, কারণ তাকে দেখে বোঝা যায় এই দল আর এই শহর আসলে কি।”

20130519-014643.jpg

“তিনি ছিলেন একজন দলপতি কারণ তিনি সবসময় শুধু দলের কথাই ভাবতেন না, তার সমস্ত চিন্তা জুড়ে ছিল এই প্রতিষ্ঠান। ক্লাব এর জন্য কি করণীয় সেই বিষয়ে অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্খী ছিলেন তিনি।”

“তার সমস্ত চিন্তা ভাবনা জুড়ে ছিল এই খেলাটি – ফুটবল ভালবাসতেন তিনি, ঘন্টার পর ঘন্টা ফুটবল নিয়ে কথা বলে যেতে পারতেন। সব সময় তার কাছে থাকতো ফুটবল ম্যাগাজিন, ফুটবল বিষয়ক বই এবং সাবেক খেলোয়ারদের জীবনীগ্রন্থ। তিনি মানেই ১০০ ভাগ ফুটবল।”

খুব কম সংখ্যক খেলোয়ার আছেন যারা এনফিল্ড (Anfield) এ থাকা কালীন সময় সহ-অধিনায়ক এর তীব্র ভৎসনা অন্তত একবারও শোনেননি – কিন্তু আলোন্সো (Alonso) কি তাদের মধ্যে ছিলেন?

“অনেক বার! আমরা প্রায়শই একজন আরেকজনের উপর চিৎকার করতাম। তিনি ছিলেন খুবই প্রগাড়, এমনকি ভীতিকর, কিন্তু যখন আপনি তাকে জানবেন, তখন আপনি এটিকে ভালো হিসেবে নিবেন,” স্মৃতিচারন করেন এই স্প্যানিশ।

“আমাদের মাঝে কখনো কোনো সমস্যা হইনি। আমার মনে পরে এক খেলায় তিনি অরবেলওয়ার (Arbeloa) উপর খুব আক্রমনাত্মক ভাবে চিৎকার করছিলেন, তাই আমি তার কাছে যাই আর তাকে বলি, ‘ক্যারা, ঠিক আছে, শান্ত হও। এতটা কঠোর হয়োনা।”

খেলার মাঠে তিনি সবসময় আলভারর (Alvaro) পেছনে আক্রমনাত্মক ভাবে লেগে থাকতেন। কিন্তু আসলে তা আক্রমনাত্মক ছিলনা, তিনি ছিলেন শুধুই নিবেদিত এবং চাইতেন যেখানে পরিবর্তনের সুযোগ আছে তা ঠিক করতে যাতে সেটা দলের জন্য ভালো হয়।

“বার্মিংহাম (Barmingham) এ আমাদের একবার খেলা ছিল, খেলা শেষ হলে আমি ক্যারাকে (Carra) বলি, ‘আমরা তোমাকে চিনি কিন্তু তোমাকে মাঠে আর একটু নমনীয় হতে হবে।’ তিনি বললেন, ‘হ্যা জাভি (Xavi), কিন্তু আসলে কি জানো যেই জিনিষটি আমার ভালো লাগে না, আমি সেটিকে ঠিক করার চেষ্টা করি।’ এই হলো ক্যারা (Carra)”

Source: www.liverpoolfc.com