ক্যারার স্বপ্নের লিভারপুল একাদশ

অনেক দিন ধরেই ভাবা হচ্ছে যে তিনি ভবিষ্যতে ফুটবল ম্যানেজার হবেন, ঠিক যে সময় তিনি শেষ বারের মত তার বুট জোড়া তুলে রাখছেন তখন আমরা (liverpoolfc.com) ক্যারাকে (Jamie Carragher) জিজ্ঞাসা করেছিলাম স্বপ্নের লিভারপুল একাদশ কোনটি।

তার ১৬ বছরের এনফিল্ড (Anfield) অধ্যায়ে যাদের সাথে তিনি খেলেছেন তাদের মধ্যে থেকে তিনি একটি দল বাছাই করেন – এই দল বাছাইয়ের পেছনের কারনও তিনি ব্যাখা করেছেন।

এটি অবশ্যই বিবেচনা করার মত একটি দল – আর সাথে আছে কিছু চমক।

গোলরক্ষক: পেপে রেইনা (Pepe Reina)

“একটা সহজ পছন্দ ছিল আমার জন্য। পেপে অন্যদের থেকে আলাদা, এবং রে ক্লেমেন্স-এর (Ray Clemence) কাছাকাছি তার রেকর্ড – আর আমরা সবাই জানি গোলরক্ষক হিসেবে সে কতটা ভালো। আমি যতজন গোলরক্ষকের সাথে খেলেছি তার মধ্যে তাকে দেখেছি সব থেকে বেশি কথার জোরে মাঠ মাতিয়ে রাখতে। এই এত বছরের মধ্যে দু এক সময় তার সাথে আমার কথা কাটাকাটি হয়েছে। তার গোল শুন্য জয়ের রেকর্ড নিয়ে সে খুবই গর্ববোধ করে।”

রাইট-ব্যাক: স্টিভ ফিন্যান (Steve Finnan)

“রাইটব্যাক, আমাকে মার্কাস ব্যাবেল (Markus Babbel) এবং ফিন্যান (Finnan) এই দুজনের মধ্যে থেকে নির্ধারন করতে হয়েছে, তবে আমি বেছে নিয়েছি ফিন্যান-কে কারন সে আমার সাথে অনেক বেশি ম্যাচ খেলেছে। দুটো চ্যাম্পিয়ন্স লীগে রক্ষণভাগের খেলোয়ার হিসাবে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ এবং রাফার (Rafa) অধীনে তার দু-তিন বছরের ধারাবাহিকতা তাকে এই স্বপ্নের দলের অন্তর্ভুক্ত করেছে।”

লেফট-ব্যাক: গ্লেন জনসন (Glen Johnson)

”আমি এইখানে গ্লেন (Glen) কে পছন্দ করেছি কারণ গত কয়েক বছরে তার খেলার ধারা অন্য একটি পর্যায়ে চলে গেছে। আমি জানি যে সে একজন রাইট-ব্যাক কিন্তু বেশ কিছুদিন সে লেফট-ব্যাক হিসেবে খেলছে। আমি তাকে এই জায়গায় রেখেছি কারন তার ক্ষমতা, তার গতি এবং তার বল নিয়ন্ত্রনের দক্ষতার জন্য।”

সেন্টার-ব্যাক: সামি হুপিয়া (Sami Hyypia)

“খুবই সহজ একটি পছন্দ। সে এই ক্লাবের একজন কিংবদন্তী। এই ক্লাবে সে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ছিল এবং অনেক পুরস্কার ও অনেক খেলা সে জিতেছে। তার খেলায় ছিল ধারাবাহিকতা এবং সে গোলও করেছে। আমিও চাইবো তার মতো ঠান্ডা মাথায় খেলতে – খেলার মাঠে সে কখনই হৈচৈ করত না।”

সেন্টার-ব্যাক: ড্যানিয়েল এগ্যার (Daniel Agger)

“গত কয়েক বছরে আমরা দেখেছি কত অসাধারন একজন খেলোয়ার আমাদের ক্লাবে আছে। সবাই ঠিকই বলে, কি দারুন তার বলের নিয়ন্ত্রণ, কিন্তু আমার মনে হয় শুধু তাই নয় তার শুন্যে বল নিয়ন্ত্রনের দক্ষতারও প্রসংশা করা উচিৎ। একজন রক্ষন ভাগের খেলোয়ার হিসাবে সে আক্রমনাত্মক এবং সব দিকে নজর রাখে।”

সেন্ট্রালমিড: জাভি আলোন্সো (Xabi Alonso)

“আমি যত অসাধারণ খেলোয়ারদের সাথে খেলেছি তার মধ্যে জাভি সব থেকে সেরাদের কাছাকাছি। এটা দেখে ভালো লেগেছে সে রিয়েল মার্দ্রিদের (Real Madrid) সাথে কি অর্জন করতে গেছে। দূর থেকে সে অসাধারণ পাস দিতে পারে এবং খেলার ছন্দ ও গতি সে চালনা করে। সে ফিরে আসলে তাকে সব সময় স্বাগত জানাবো।”

সেন্ট্রালমিড: ডিডি হামেন্ (Didi Hamann)

“ডিডি কে নেয়ার পেছনে অনেকগুলো কারন আছে এবং তার মধ্যে সবগুলো ফুটবল সম্পর্কিত নয়! ইস্তাম্বুলে তাকে আমি নিয়াছিলাম। সে জার্মানির হয়ে ওয়ার্ল্ডকাপ ফাইনাল খেলেছে এবং ২০০১ মৌসুমে সে উপরের সারির একজন খেলোয়ার ছিল। এই সিদ্ধান্ত নেয়াটা সহজ ছিলনা, আমাকে, তার এবং হাভিয়ের মাস্চেরানোর (Javier Mascherano) মধ্যে থেকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।”

সেন্ট্রালমিড: স্টিভেন জেরার্ড (Steven Gerrard)

“সে একজন ‘ওয়ার্ল্ড ষ্টার’। ১০ থেকে ২০ বছর পর মানুষ তাদের নাতি-নাতনীদের গল্প করবে যে তারা স্টিভেন-এর খেলা দেখেছে। আমার মনে আছে তার প্রথম খেলা ছিল চেলটা ভিগর (Celta Vigo) বিপক্ষে, সেই খেলায় প্রথমার্ধে সে ৪০/৫০ গজ দুরের একটি পাস্ দিয়েছিল। এইটা করতে সাহস লাগে আর যখনি আমি এটা দেখেছি তখনই আমি বুঝে গেছি সে একজন উপরের সারির খেলোয়ার হতে যাচ্ছে।”

20130529-210049.jpg

ফরওয়ার্ড: রবি ফাওলার (Robbie Fowler)

“তার রেকর্ড বলে দেয় সে কি, কিন্তু আমরা মাঝে মাঝে ভুলে যাই কি অসাধারন ফুটবলার সে ছিল। সব ধরনের গোল সে করেছে কিন্তু দেখা যেত সে অসাধারন পাস্ দিচ্ছে। তার শুন্যে বল নিয়ন্ত্রনের দক্ষতা আমার কাছে সব সময় অসাধারন লাগত। যেদিন সে ফিরে এসেছিল, তাকে মনে হচ্ছিল ক্রিসমাস সকালের এক আনন্দিত বালক।

ফরওয়ার্ড: মাইকেল ওয়েন (Michael Owen)

“ফার্নান্দ তোরেসের (Fernando Torres) জায়গায় আমি বেছে নিয়েছি মাইকেলকে কারন ২০০১ এর এফএ কাপ (FA Cup) ফাইনাল। মাইকেল আমাদেরকে কাপ জিতিয়েছিল আর্সেনাল-এর বিরুদ্ধে। সেটা ছিল ‘দ্যা ওয়েন ফাইনাল’। এখন মানুষ তাকে নিয়ে যাই বলুক না কেন, আমার কাছে, লিভারপুল মানে কিছু জয়লাভ করা এবং সেটাই তাকে স্থান করে দিয়েছে।”

ফরওয়ার্ড: লুইজ সুয়ারেজ (Luis Suarez)

“আমি সেরা যে খেলোয়ারদের সাথে খেলেছি তার মধ্যে স্টিভি সবসময়ই সবার সেরা, কিন্তু লুইজের সাথে আমি যত খেলেছি ততই মনে হয়েছে সে দ্বিতীয় স্থান দখল করবে। আমি এরকম কাউকে দেখিনি যে এতবার অন্যদের দু পায়ের ভেতর দিয়ে বল বের করে নিতে পারে। সে এতটাই ভাল, আমার মনে হয় সে পৃথিবীর যে কোনো দলের হয়ে খেলতে পারবে।”

 

Source: Liverpool FC Official Website