ব্রেনডেন রজার্সের লক্ষ্যঃ প্রিমিয়ার লিগ – ২০১৩/১৪ মৌসুমে শীর্ষ চার দলের মধ্যে জায়গা করে নেওয়া

ব্রেনডেন রজার্স স্বীকার করলেন যে  লিভারপুল এই গ্রীষ্মের ট্রান্সফার বাজারে কোন ভুল পদক্ষেপ নিলে  প্রিমিয়ার লিগ – ২০১৩/১৪ মৌসুমে শীর্ষ চার দলের মধ্যে জায়গা করে নিতে পারবে না।

ইতিমধ্যে রজার্স রক্ষণভাগ সামলানোর জন্য কোল ট্যুরেকে ম্যানসিটি থেকে টেনে তার দলে অন্তরভুক্ত করছেন এবং ইয়াগো আস্পাস তার দলের নতুন সংযোজন। অন্যদিকে লুইস আলবের্তর সাথে চুক্তি সম্পন্ন করার দ্বার প্রান্তে রয়েছেন। ফেনওয়ে স্পোর্টস গ্রুপ (Fenway Sports Group) এর আস্পাস ও আলবের্তকে কিনতে নিতে প্রায় ১২.৭ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ হবে।

লিভারপুলের মালিক রজার্সকে আর্থিকভাবে সব ধরেনের সাহায্য করতে প্রস্তুত যাতে তারা ২০১৪/১৫ এর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে। তবে তার আগে লিভারপুলকে এই মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে সেরা ৪ ক্লাবের মধ্যে অবস্থান করতে হবে। লিভারপুল এফসি ২০১০ সালের পর এখন পর্যন্ত উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি।

Football - Liverpool FC appoint Brendan Rodgers as manager

“আমি এখানে বসে আরাম করতে বা অর্থ উপার্জন করতে কিনবা লিভারপুলের ম্যানেজার পদের দায়িত্ব উপভোগ করতে আসিনি”

আরও একজন সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারের সাথে চুক্তিবদ্ধ করা লিভারপুলের পরবর্তী লক্ষ্য – শালকের ক্যারিয়াকোস পাপাডোপৌলস (Schalke’s Kyriakos Papadopoulos) এই তালিকার শীর্ষে আছেন। তিনি ছাড়াও তার পছন্দের তালিকায় আছেন তিয়াগো ইলরি। রজার্স পরিস্কার করে বলেননি যে তিনি আসলে কতজন খেলোয়াড় এনফিল্ডে আনতে চান, তবে নতুন খেলোয়াড় যেন তাদের জায়গায় ঠিক মত খেলতে পারে এই ব্যাপারে তিনি যথেষ্ট সচেতন।

‘অন্তত আরো ২০ টি গোল যাতে দল বেশি করতে পারে সেই চেষ্টা আমাকে করতে হবে’, রজার্স জানান। ‘আমি আরো একজন আক্রমন ভাগের খেলোয়ার খুজছি  এবং একজন আক্রমনাত্মক মিডফিল্ডার। এটা আমাদের করতেই হবে যেহেতু আমরা চেষ্টা করব আমাদের তরুণ খেলোয়ারদের ধারে অন্য দলে পাঠাতে যাতে তারা অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে।”

‘কিন্তু কাজটা সহজ নয় যখন কোন ভুল করা যাবে না। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই, তাই এই গ্রীষ্মের দলবদলের বাজার আমদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদেরকে সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে, কারণ আমরা এমন খেলোয়াড় চাই যে শুরু থেকেই আমাদের জন্য কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে।”

রজার্সের জন্য এই বছরটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে তিনি ১২ মাস সময় পেয়েছেন এনফিল্ডে মানিয়ে নেয়ার জন্য। তিনি ভালো করেই জানেন সামনের মৌসুমে প্রথম খেলা থেকেই তার কাজের চুল চেরা বিশ্লেষণ শুরু হবে কিন্তু তিনি এই চাপ বেশ সহজভাবে নিচ্ছেন।

“আমি এখানে বসে আরাম করতে বা অর্থ উপার্জন করতে কিনবা লিভারপুলের ম্যানেজার পদের দায়িত্ব উপভোগ করতে আসিনি”, রজার্স ব্যাখ্যা করেন, “এই দায়ীত্বের পাশাপাশি বিশাল চাপ তৈরী হয়। আর আমি বিশ্বাস করি আমরা সেটা করার জন্য অনেক ভাল জায়গায় অবস্থান করছি। আমরা গত মৌসুমে যা দেখিয়েছি তা ছিল আশাব্যঞ্জক।

“এখানে কিছু হতাশার মুহূর্ত যেমন আছে, ঠিক তেমনি আনন্দের মুহূর্তও আছে কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে গত বছর আমরা ৪৭টি গোল করতে সক্ষম হয়েছি, আর এইবার আমরা করেছি ৭১টি – আমরা আশা করি আমরা এই সংখ্যা বাড়িয়ে যাব। গত মৌসুমে যে দলের রক্ষণভাগ সব থেকে শক্তিশালী ছিল তাদের চাইতে আমরা মাত্র ৩টি গোল বেশি খেয়েছি।”

দেখা যাচ্ছে পরিসংখ্যান ও খেলার ভিত্তিতে আমাদের খেলার মান উন্নত হয়েছে। আমার বিশ্বাস আমরা আরও উন্নতি করব ও আমাদের তা করতেই হবে কারণ আমরা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে চাই। আমার মনে হয় আমরা পারব কিন্তু ব্যাপারটা বেশ কঠিন কারণ আমাদের পাশাপাশি অন্যান্য ক্লাবও অর্থ খরচের মাধ্যমে তাদের ক্লাবের মান উন্নত করতে চাইবে।

‘কিন্তু আমি সত্যি বিশ্বাস করি যে গেল বছর আমরা একটা ভাল ভিত্তি তৈরী করেছি। খোড়া যুক্তি দেখানো আমার কাজ না, আমার কাজ হচ্ছে সমস্যার সমাধান বের করার চেষ্টা করা ও দলের মনোবল বাড়ানো এবং আমার বিশ্বাস আমরা আমাদের লক্ষ্য থেকে বেশি দূরে নেই”।

European Football - UEFA Europa League - Group A - Udinese Calcio v Liverpool FC

তবে রজার্স  শুধু  চ্যাম্পিয়ন্স লিগে যোগ্যতা অর্জন নয় বরং এর সাথে এফএ কাপ ও ক্লাব কাপও জিততে চান।

ব্রেনডন রজার্স আত্মবিশ্বাসী যে লিভারপুল ২০১৩-১৪ মৌসুমে ভাল খেলবে ও সেটি করার জন্য এইবার তারা বেশ ভাল অবস্থানে আছে। তার ধারণা এই গ্রীষ্মের দলবদলের পর তার দলের শক্তি আগের চেয়ে উন্নত হবে ও কাপ প্রতিযোগিতা গুলোতে অন্যান্য দলের শিবিরে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে ।

তিনি বলেন, “এইবার, আমরা অবশ্যই লিগ কাপ ও এফএ কাপ জয়ের জন্য লড়াই করব আর সেটার জন্য আমাদের এইবার আগের চাইতে অনেক ভালো একটি দল আছে।”

“বিগত বছর আমাদের দল ছিল অত্যন্ত দুর্বল, অল্প বয়সী এবং অনভিজ্ঞ খেলোয়ার দিয়ে আমাদের চালাতে হয়েছে। এটা আসলেই সত্যি যে যারা আমাদের দলে এসেছে তারা দলের মান উন্নত করেছে এবং এটা কাকতালীয় নয় যে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে গেছি যখন দল উন্নত হয়েছে।

আমাদের আরও শক্তি ও অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে, এবং এটাই আমাকে এই গ্রীষ্মে অনুপ্রেরনা জোগাবে। যদি আমরা এটা করতে পারি, যদি শুরুটা ভাল হয়, তবে আমরা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে সক্ষম হব।”