“তাঁর মূল্য হত আকাশচুম্বী”

লিভারপুলের ৭৫ বছর বয়সী সাবেক খেলোয়ার জিয়ফ স্ট্রং-এর মৃত্যু সংবাদ পেয়ে তাঁর প্রতি উষ্ণ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন একই ক্লাবের হয়ে রেকর্ড সংখ্যক খেলায় অংশগ্রহণকারী ইয়ান ক্যালাঘান।

বহুপ্রতিভাবান জর্ডির সাথে ৬০-এর দশকে ছয় মৌসুম ধরে একই সাজঘরে কাটিয়েছেন ক্যালাঘান। তার মতে, স্ট্রং-এর মূল্য আধুনিক ফুটবল জগতে হত আকাশচুম্বী।

লিভারপুল ইকোকে ক্যালাঘান বলেন, “ এটা খুবই বিমর্ষ একটা দিন। জিয়ফ সত্তি ছিলেন খুবই চমৎকার একজন মানুষ। যাদের সাথেই তাঁর পরিচয় ছিল, তাদের সবার কাছেই তিনি ছিলেন খুবই জনপ্রিয়।

তিনি যদি আজ খেলতেন, কোনো সন্দেহ নেই যে, তাঁর মূল্য হত আকাশচুম্বী

“মাঠ এবং মাঠের বাহিরে- দুই জায়গাতেই আমরা ভালো বন্ধু ছিলাম। তাই, এই শোকার্ত সময়ে তার পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা।”

স্ট্রং ১৯৬৪ সালে আর্সেনাল থেকে এসে রেডদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন, এবং মোটামোটি সব পজিশনে খেলেছেন, সেই সাথে ২০১টি খেলায় অংশগ্রহন করে ৩৩টি গোল উপহার দিয়েছেন।”

ক্যালাঘান আরো যোগ করেন – “তিনি একজন ইনসাইড ফরওয়ার্ড হিসেবে দলে যোগদান করেন সেই সাথে তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ গোলদাতা।”

আর্সেনালের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে আমরা তাকে প্রতিদ্দ্বন্দী হিসেবে পেতাম, এবং তিনি সবসময়ই আমাদেরকে ঝামেলায় ফেলতেন। তাই আমার ধারণা, আমরা যখন তাকে দলে পেলাম, সবাই খুব খুশি হয়েছিলেন।

TMC170613GEOFFSTRONG-2-4388916

তিনি গোলরক্ষক ছাড়া আর সব ভূমিকায়ই খেলেছেন। তিনি যেখানেই খেলতেন সেখানেই কৃতিত্ত্ব দেখাতেন। তিনি ছিলেন একজন সত্যিকারের খেলোয়ার। তিনি যদি আজ খেলতেন, কোনো সন্দেহ নেই যে, তাঁর মূল্য হত আকাশচুম্বী ।

এনফিল্ডে থাকা অবস্থায় তিনি একটি চ্যাম্পিয়ন্স লীগ এবং একটি এফএ কাপ জিতেছেন, কিন্তু তাঁর সেরা সময়টা সম্ভবত ছিল তখন, যখন তিনি তার ইনজুরিকে পাত্তা না দিয়ে ১৯৬৬ সালের কাপ উইনার্স কাপ (Cup Winners’ Cup) ফাইনালে লিভারপুলকে নেতৃত্ব দেন।

সেই বিখ্যাত গোলটির ক্রস দাতা আরো বলেন, “তিনি ঐ খেলাতেই তার কার্টিলেজ-এ আঘাত পেয়েছিলেন। তিনি ঐ মৌসুমে আর ফিরে আসেননি।”

কিন্তু তারপরও তিনি গোলটি করতে পেরেছিলেন যার ফলে আমরা ফাইনালে যেতে পেরেছিলাম। এই ঘটনাটিই বলে দেয় তিনি কি ধরনের মানুষ ছিলেন, কি ধরনের খেলোয়ার ছিলেন।”